প্রচ্ছদসাহিত্য

একগুচ্ছ কিশোর কবিতা- রুদ্র সুশান্ত

জলের কথা

জল দেখেছো- বৃষ্টি হলে?

জল দেখেছো- খালে বিলে?

জল দেখেছো- শহর নালায়?

পঁচা জলে কেমন জ্বালায়?

জল দেখেছে- পুকুর ভরে?

নিথর দেহে খেলা করে।

জল দেখেছো– ঐ যে দীঘি

নাম দিয়েছি সোনামুখী।

জল দেখেছো- তোমরা কভূ

বন্যা কেনো দাও গো প্রভূ?

বন্যা হলে ভাসে সবি

দেখছো কভূ, বানের ছবি?

গ্রাম গঞ্জে বানের জল

নষ্ট করে মধুর ফল।

জল দেখেছো- পাড়ায় পাড়ায়

কেমনে করে থাকে ধরায়(?)

 

নদীর ধারে ভর্তি জলে

আঁচড়ে পড়ে কূলেকূলে।

জল দেখেছো–বিশাল ঢেউ

তোমরা কভূ দেখেছো কেউ?

জল দেখেছো সাগর মাঝে

নিয়ম নেমে গরজে গরজে,

ঢেউ দিয়ে যায় আবার ক্লান্ত

মহাসাগর বড্ড শান্ত।

সাগর জল উপছে উঠে

সাগর বুকে ঢেউয়ে ফোটে।

নদীর জল ভাঙ্গে দু-কূল

বসত হারায় বংশ-কুল।

জল দেখেছো- এখানে ওখানে

জল দেখেছো – হৃদয় খানে।

কতো জল দেখছো তোমরা?

 

চোখের জলের এমন জল আছে কি আর কোথাও?

বৃষ্টি হোক, বন্যা হোক, চোখের জল’টা থামাও।

 

 

ছড়ার কথা

একটা ছড়া লিখতে হবে, একটা ছড়া পড়তে,

একটা ছড়া দেখতে হবে, একটা ছড়া শিখতে।

একটা ছড়া সবুজ হবে, একটা ছড়া নীল,

একটা ছড়া আকাশ হবে, একটা হবে চিল।

 

একটা ছড়া পাহাড় হবে, একটা ছড়া ঝর্ণা,

একটা ছড়া পড়বে বনি, একটা পড়বে বন্যা।

একটা ছড়া গাঁ’য়ের হবে, একটা ছড়া মায়ের,

একটা ছড়া দুধের হবে, একটা হবে চা’য়ের।

 

একটা ছড়া শুদ্ধ হবে, একটা ছড়া ভুল,

একটা ছড়া পাখি হবে, একটা ছড়া ফুল।

একটা ছড়া আঁবকে নদী, একটা ছড়া সাগর,

একটা ছড়া সিংহ হবে, একটা হবে বাঁদর।

 

একটা ছড়া গুরু হবে, একটা ছড়া শিষ্য,

একটা ছড়া দুঃখ দিবে, একটা দিবে হর্ষ।

একটা ছড়া পড়বে মা’য়, একটা পড়বে শিশু,

একটা ছড়া পড়বে সবাই, একটা পড়বে যিশু।

 

একটা ছড়া বুড়ার গল্প, একটা ছড়া বুড়ির,

একটা ছড়া থলের হবে, একটা হবে ঝুড়ির।

একটা ছড়া গাড়ীর হবে, একটা হবে বাড়ীর,

একটা ছড়া টুঁপির হবে একটা ছড়া দাড়ির।

 

একটা ছড়া বাগান হবে, একটা ছড়া পুকুর,

একটা ছড়া সকাল হবে, একটা ছড়া দুপুর।

একটা ছড়া ছায়া দিবে, একটা দিবে রোদ,

একটা ছড়া জ্ঞান দিবে, একটা দিবে বোধ।

 

একটা ছড়া ভালোবাসবে, একটা দিবে মায়া,

একটা ছড়া পূণ্য দিবে, একটা আদব কায়া।

 

একটা ছড়া বুক পেতে লই, ভালো লাগার টানে,

একটা ছড়া সব বলে দিক্,  মানুষ যাহা  জানে।

 

 

শহুরে জীবন

ইটের পরে ইটের সারি দালানকোঠার শহর,

লোকের পরে লোকের সারি, যানবাহনের বহর।

 

গলির মাঝে নানান কাজে, নানান লোকের চলা,

অলির কথা গলির ব্যথা ছন্দে ছন্দে বলা।

 

ভোর হলেও কোন পাখি যায়না এথায় দেখা,

কাউয়া করে কা কা শুধু, দল ছেড়ে সে একা।

 

লোহার শ্রমিক রিকসা চালক, চলে নিজের কাজে,

আরো যারা আছে সবাই চলছে নিজের সাজে।

 

কখন জানি সন্ধ্যা হলো,  কখন হলো রাত,

কিছুই বুঝতে পারিনা আমি,জীবন বরবাদ।

 

লোকে ভরা শহর এটা যায়না চেনা কারো,

মাথা রাখার ঠাঁই নাই, তবু আসে আরো।

 

নিত্য নতুন ফ্যাক্টরী আর কলকারখানা বেশ,

পরিবেশের সর্বনাশ করছে তারা শেষ।

 

লোহায় বাঁধা জীবন এটা গোলক ধাঁধার কলে,

লোহার মতো কঠিন জীবন থেমে থেমে চলে।

 

চাকুরীজীবী, শ্রমজীবী যার যার তালে সে,

কে কোথায় এলো গেলো খবর রাখে কে?

 

ডাস্টবিন আর পঁচা গন্ধে ভরা বস্তিবাসী

নতুন কেউ এলে এখানে হবে সর্দিকাশি।

 

ইয়া বড়ো দালান আর পিচ ঢালা রোড,

বাবুরা সব চলে এথায় পড়ে রঙিন কোট।

 

কারো কষ্ট কারো চোখে লাগার মতো নয়,

এসব ছেড়ে চাও তোমরা মানবতার জয়।

 

শহর হোক মনের মতো শহর হোক ভালো,

শহর হোক নির্মল এবার, মুছে অন্ধ কালো।

 

শহর মাঝেই ফিরে পাবো পল্লী গাঁ’য়ের টান,

ভালোবাসায় যুক্ত হয়ে রাখো বাঙলার মান।

 

 

মাছ ধরা

বৃষ্টি এলো বৃষ্টি এলো

খোকাখুকি ঘুম পড়লো

বৃষ্টির মাঝে পাড়া পড়শী

মাছ ধরছে বেশি বেশি।

 

উজান উঠছে হলদে কই

বিজু খোকা রইছে শুয়,

মা’য় বলছে উঠরে খোকা

মাছ ধরা আজ হবে শেখা।

 

গাঁ’য়ের পথে বিলে  ঝিলে

মাছ ধরছে সবাই মিলে।

খোকা আছে দাঁড়ায় সেথায়

পাড়া পড়শী গেলো যেথায়।

 

খোকন ঘুমাও খুকি ঘুমাও

মাছ ধরতে বৈঠা নাও।

উজান মাছ ধরছে যারা

মাছ ধরা আজ হলো সারা।

 

গঞ্জে যতো মানুষ ছিল

সবাই মিলে মাছ ধরলো।

পাশের বাড়ী পরের বাড়ী

মাছ ধরল তাড়াতাড়ি।

 

বৃষ্টি এল বৃষ্টি গেলো

খোকাখুকি ঘুমে রইল।

 

 

আরও পড়ুন- সুশান্ত হালদারের কবিতা

 

error: Content is protected !!