ফিচার

কাঁচা কলা খাওয়ার উপকারিতা

গ্রাম বাংলার সর্বাধিক পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি ফ হলো কলা। বাংলাদেশে কলা সাধারণত পাকা ফল হিসেবে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। তবে পৃথিবীল বিভিন্ন দেশে কাঁচা কলা খাওয়া হয়। বাংলাদেশে পাকা কলা ফল এবং কাঁচা কলা সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। কাঁচা এবং পাকা দুই ধরনের কলাতেই অসংখ্য গুনাগুণ রয়েছে। প্রাচীন আমল থেকেই এদেশে রোগীর পথ্য হিসেবে কলা একটি উৎকৃষ্ট মানের ফল বা খাবার হিসেবে গণ্য। পাকা কলা হলুদ রং এবং কাঁচা কলা সবুজ রঙের হয়। কাঁচা কলায় প্রচর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, পটাসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক এবং ফেনোলিক ইত্যাদি বিদ্যমান রয়েছে।

আজ আমরা কাঁচা কলা খাওয়ার উপকারিতা সর্ম্পকে আলোচনা করবো-

কাঁচা কলার পুষ্টিগুণ- কাঁচা কলাতে প্রচুর পরিমাণে শ্বেতসার, ফ্যাটি উপাদান, খনিজ উপাদান ও ভিটামিন থাকে। যারদরুণ কলা কাঁচা বা পাকা যেকোনো খেলেই কলায় বিদ্যমান পুষ্টিগুণ থেকে মানবদেহের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়। পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিলে কলা খেলে তাৎক্ষণিক ভাবে কলা দেহে পুষ্টির জোগান দেয়। গবেষকগল বলছেন একটি পরিপুষ্ট কলায় প্রায় ৮০ ক্যালোরি পুষ্টি পাওয়া যায়।

ওজন কমানোতে কলা- ক্ষুধা বৃদ্ধি ও ওজন কমানো দুটি বিষয় একটি অপরটির সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িত। কাঁচা কলায় ফাইবার জাতীয় উপাদান থাকায় কাঁচা কলা খেলে অনেকক্ষণ তা হজম হয় না-ফলে ক্ষুধাও লাগে না। যার দরুণ কিছু খাওয়া হয় না-এবং শরীরের ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

সুগার নিয়ন্ত্রণ- মানুষের শরীরের রক্তে চিনির মাত্রা বেড়ে গেলে ডায়বেটিকস রোগে আক্রান্ত হয়। শরীরের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাঁচা কলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাঁচা কলায় থাকা শ্বেতসার ও ফাইবার রক্ত থেকে চিনি নিয়ন্ত্রণ করে।

ক্যান্সারের প্রতিষেধক- মানুষের জন্য বর্তমানে ক্যান্সার হলো দূরারোগ্য মরণব্যাধি। সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা নিতে পারলে ক্যান্সার থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ক্যান্সার প্রতিরোধে কাঁচা কলা একটি চমৎকার ঔষধ বলে দাবি করছেন গবেষকরা। গবেষকদের মতে, কাঁচা কলায় থাকা শ্বেতসার কোলন ক্যান্সার এড়াতে সহায়ক।

কাঁচা কলা খাওয়ার উপকারিতা

হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় কাঁচা কলা- রক্তের কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ মানুষের হৃদযন্ত্রকে দূর্বল করে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। কাঁচা কলা খেলে হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। কাঁচা কলার অন্যতম উপাদান ফাইবার কার্ডিওভাসকিওলার তৈরির মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা দিয়ে থাকে।

চুল ও ত্বকের যত্নে কাঁচা কলা- কাঁচা কলায় বিদ্যমান থাকা উপাদান কার্বোহাইড্রেট, পটাসিয়াম ও ভিটামিন কে চুলের জন্য খুবই উপকারী। নিয়মিত কাঁচা করা খেলে চুলের গোড়া শক্ত ও মজবুত হয়। এছাড়াও কলার এন্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় গুণ মুখের ব্রণ ও ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী।

হজম শক্তি বাড়ায় কাঁচা কলা- কলায় থাকা খনিজ ও পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরের চর্বিগুলোকে ভেঙে এনজাইম উপাদান তৈরি করার মাধ্যমে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে কলা।

এছাড়াও কাঁচা কলা ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, কিডনির জটিলতা ইত্যাদি নানা রোগের প্রতিষেধক হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে।

 

আরও পড়ুন- পাকা কলা খাওয়ার উপকারিতা

error: Content is protected !!